পেকুয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সাংবাদিক পরিবারের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার সময় ভুক্তভোগীদের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭–৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পেকুয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখের কিল্লা ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—একই এলাকার মৃত বজল আহমদের ছেলে সাংবাদিক নিজামুল ইসলাম নিজাম (৩২) এবং তার বড় ভাই জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী জিনুয়ারা বেগম (৩৫)। আহত নিজামুল ইসলাম নিজাম জাতীয় দৈনিক নতুন সময় ও দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে মফিজুর রহমান (৩৫), আজিজুর রহমান (৪০), আনিছুর রহমান (৪৩) ও মোরশেদুর রহমান (৩২); মৃত শামশুল আলমের ছেলে সাকিবুল ইসলাম বাবু (১৮) এবং মৃত তোতা মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন (৭৩)। এছাড়া আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া মৌজার বি.এস ১৬ নম্বর খতিয়ানের ১৯২৬ ও ১৯২৪ দাগে মোট ১৫ দশমিক ৭৯ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ পূর্বেও জমিটি দখলের চেষ্টা করলে নিজামুল ইসলাম নিজাম ২০২১ সালে পেকুয়া থানায় জিআর-১১৯/২০২১ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরে ২০২৫ সালে প্রতিপক্ষও চকরিয়া আদালতে ভূমি আইনে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানায়, শুক্রবার সকালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে বিরোধীয় জমিতে আসে এবং স্ক্যাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। এ সময় ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে নিজামুল ইসলাম নিজাম (৩২) নামের এক ব্যক্তি হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে ঝিনু আরা বেগম (৩৫) নামের এক নারীও হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় আহতদের ব্যবহৃত Realme Note 70 ও Samsung J4+ মডেলের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

হামলার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ কেসও নথিভুক্ত করেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিজামুল ইসলাম নিজাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পারিবারিক জমি দখলের চেষ্টা চলছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমিতে মাটি কাটতে আসে। আমরা বাধা দিলে তারা হামলা চালায়।”

তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এলাকায় মাঝে মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিকভাবে সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।